আর পারছি না


 

সত্যি বলছি আর পারছি না। আমার ভাষা আমি হারাচ্ছি, না কিছুই লিখতে পারছি না। সব আমার গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে।

আমরা কি? নিজেদের আজ খুব বেশী ছোট লাগছে। যে পতাকার জন্য ৭১‘এ ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হলো ২.৫০ লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারালো। রক্তের প্রবাহমান স্রোতে ভেসে গেল বাংলার জমিন। যে পতাকা আমাদের হাতের শক্ত বাহুতে রেখে শান্তিতে নিদ্রার আশ্রয় খুঁজতে চেয়েছে লক্ষ শহীদ, সেই পতাকা আবারও ছিহ্ন-হিহ্ন হলো বাংলার মাটিতে, এই বাংলার সন্তানদের হাতে?

আমরা কি বেঁচে আছি? যদি বেঁচে থেকে থাকি তবে, যে ভালোবাসায় মমতায় আমরা “জয় বাংলা” ধ্বনিটাকে আগলে রেখেছি, যে ভালোবাসা মমতায় বাংলা মাকে কথা দিয়েছিলাম মাগো নিজের সমস্ত সামার্থ্য দিয়ে তোমার মমতার অবদান আমরা ধরে রাখব। যে আঁচলের স্নেহ আবদারে আমরা বলেছিলাম মাগো; তুমি আমাদের অহংকার, আমার তোমার বীর সন্তান! আজ সে বাংলায় ধ্বনিত হয় “জয় পাকিস্থান”, তাও এই বাংলার মাটিতে, বাংলার সন্তানদের মুখে?

আমরা কিভাবে বুঝব আমরা বেঁচে আছি? যখন দেখী এই বাংলায় নিজেদের স্বাধীনদেশের সন্তান দাবী করেও এই স্বাধীনতাটাকে ভালো না বেসে আর দায়-দায়িত্ব সমুন্নত না রেখে, যারা জীবন দিয়ে স্বাধীনতাটাকে স্থাপিত করেছে তাঁদের সম্মানার্থে নির্মিত শহীদ মিনার ভেঙ্গে ছারখার হয় এই বাংলার মাটিতে। তখন সত্যি ভাবতে পারি না এই দেশে আমরা বেঁচে আছি। এই দেশমাতৃকার মমতার দাম আমাদের কাছে মূর্খ্য হচ্ছে। আমাদের অঙ্গিকার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার।

তুমি বিভ্রান্ত হলে মা, এই তোমার আলো-বাতাস-স্নেহ দিয়ে তুমি যাদের লালন করছ মা তারা তোমার সন্তান নয় মা। এরা এক-একটা কুলাঙ্গার। যারা তোমার শরীরের বস্ত্র জাতীয় পতাকাকে তোমার শরীর থেকে বিবস্ত্র করে তোমাকে নিয়ে নোংরা খেলায় মাতে, যারা দেখেও বোবা দর্শকের মতো বসে থাকে, যাদের কাছে মায়ের সম্ভ্রমের চেয়ে নিজের জীবনের মূল্য বেশী থাকে, এদের তোমার বীর সন্তান না ভেবে কুলাঙ্গার ভাবো। তোমার বীর সন্তানরা এই বাংলায় অনেক আগেই শয়ন পেতেছে।

শুধু দায়মুক্তির অভিশাপে নিজেকে নিয়ে আজ বড় দুঃখ হয়, দেশমাতৃকার এই করূণ সময়ে নিজের প্রতি অবজ্ঞা ভরে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে, মায়ের কুলাঙ্গার সন্তান হয়ে আজীবন অনুশোচনা দগ্ধ হতে হবে যতদিন এই নিঃশ্বাসের পরিসমাপ্তী না ঘটে….

Advertisements

আসুন কিছু মানবিক কাজে সাড়া দেই


ছোট্ট ছেলে। বয়স আট কি নয় হবে। মায়ের কাছ থেকে খাওয়ার জন্য দশ টাকা পেয়ে খেতে বেরিয়ে আসল দোকানে। এসে দেখে দোকানের পাশে একটা লোক মুরগির বাচ্চা বিক্রি করছে। খাঁচার মধ্যে কতগুলো মুরগির বাচ্চা খেলছে দেখে কোমল মন আনন্দে নেচে উঠল। মুরগির বিক্রেতার কাছে তাই তার জিঞ্জাসা মুরগির বাচ্চার দাম কত? লোকটি জানাল প্রতি বাচ্চার দাম পনের টাকা। ছেলেটি বলল-দশ টাকা দেবেন? আমার কাছে দশ টাকা আছে।
লোকটি তাতেই তাকে একটা মুরগির বাচ্চা দিল। মুরগির বাচ্চাটি হাতে পেতেই আনন্দ-উৎচ্ছ্বাসে উধ্বেলিত মনে নিজের বাসার দিকে দিল ছুট। ছোট বোনকে দেখাতেই সে আনন্দে নেচে উঠল। দুই ভাই-বোনের আনন্দ-উল্লাস শুনে মা ছুটে এল। মুরগির বাচ্চাটি দেখতেই মায়ের জিঞ্জাসা করল-কোথেকে পেয়েছে মুরগির বাচ্চাটি। ছেলেটি মাকে সত্য জবাব দিল। মা বলল-তোকে টাকা দিয়েছি কিছু এনে বোনকে নিয়ে খাবার জন্য আর তুই মুরগির বাচ্চা নিয়ে এসেছিস? একথা শুনেই ছোটবোন খাবাবের জন্য কান্না শুরু করল।  মা বলতে লাগল- তুই এটাকে কই রাখবি? আর এটা ঘর নোংরা করবে। যা এটা ফিরিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে আয়। মায়ের কথায় ছেলেটির মধ্যে বিরূপ ভাব তৈরী হল। কিছুক্ষন আগেকার সেই সুখানুভব তার মধ্যে থেকে উদাও হয়ে গেল। তাই সে ছুটল মুরগির বাচ্চা ফিরিয়ে দিতে। দোকানদার মুরগির বাচ্চার খাঁচাটা নিয়ে চলে যাচ্ছিল, ছেলেটি তাকে বলল- দাঁড়ান, দাঁড়ান। লোকটি ছেলেটিকে জিঞ্জাসা করল- কি হয়েছে? ছেলেটি জানাল-সে মুরগির বাচ্চাটি নেবেনা, এটা ফেরত নিতে। লোকটি ফেরত না নিয়ে চলে যেতে লাগল, আর যেতে-যেতে বলতে লাগল-বেটা! মুরগির বাচ্চা ঘাইটা-ঘুইটা আইনা দিলেই নিয়ে যামু? ছেলেটির পাশেই সমবয়েসি আরোকটি ছেলে। যে একটু আগে মুরগির বাচ্চা বিক্রেতার মুরগির বাচ্চার খাঁচাটার পাশে বসে-বসে মজা করে খেলেছিল। ওর দিকে তাকিয়ে ছেলেটি বলল- রুস্তম তুই মুরগির বাচ্ছা ফেরত নিতে বল না। যদিও রুস্তমের সে ক্ষমতা নেই লোকটিকে কিছু অনুরোধ করার, তবুও ছোট জ্ঞানের পরিধিতে ছেলেটির ভাবনা, যেন রুস্তমই কিছু করতে পারে। রুস্তম বোকা বনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইল। মুরগির বাচ্চা বিক্রেতা চলে গেলে ছেলেটি রুস্তমকে বলল- তুই এটা কিনে নিয়ে যা, একথা শুনেই রুস্তম দিল দৌড়। আর ছেলেটি মুরগির বাচ্চাটি হাতে নিয়ে বলতে-বলতে কান্না শুরু করে দিল- আমার দশ টাকা, মুরগির বাচ্চা নিয়ে যান, আমার দশ টাকা দিয়ে দেন। আমি পাশে দাঁড়িয়ে ছেলেটির মজার কান্ডকারখানা দেখতে লাগলাম। কান্না শুরু করতেই আমি ছেলেটিকে ধরলাম, বললাম কাঁদছ কেন? ছেলেটির কান্নার সুরেই বলতে লাগল, মুরগির বাচ্চা নিয়ে গেলে মা মারবে। একথা বলেই কান্না থামিয়ে সে আমাকে বলতে লাগল- মুরগির বাচ্চাটি ধরেন। ওর কথা শুনে আমি বোকা বনে গেলাম। কারণ, আমি একজনের কাছে গেছি একটা কাজে।  তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছি লোকটির জন্য। আমি ভাবতে লাগলাম ছেলেটিকে দশটাকা দিয়ে দিতে পারি আমি, কিন্তু মুরগির বাচ্চা নিয়ে আমি কি করব?  ঢাকা শহরে আমি যে খাঁচায় থাকি, সে খাঁচায় আমার নিজেরই দম বন্ধ হয়ে আসে, তাহলে এই মুরগির বাচ্চা নিয়ে তাকে রাখব কোথায় আর কিভাবে যত্ন করব? ভাবতে-ভাবতে আমি ছেলেটির দিকে হাত বাড়িয়ে মুরগির বাচ্চাটি ধরলাম। কিন্তু নিজে কি করব তা বুঝতে পারছিলাম না। আমার হাতে মুরগির বাচ্চাটা ধরিয়ে দিতেই ছেলেটির মুখে হাসি ফুটে উঠল, বুঝলাম ছেলেটির মাথা থেকে কোন এক অজানা ভয়ের ভীতি কেটে গেছে। হয়তো সে অজানা ভীতি মায়ের মাইর বা বকাঝকা। কিন্তু ব্যাপার তো সেটা না, আমি এখন মুরগির বাচ্চা নিয়ে কি করব তাই ভাবছি, যে লোকটি আসছে তাকে দিয়ে দেব? আবার ভাবলাম সে কিভাবে নেবে? সেও তো আমার মতো পাখির খাঁচায় থাকে। ভাবতে-ভাবতেই একটা মহিলা আর দশ কি এগার বছরের দুটো মেয়ে ছুটে এসে আমাকে জিঞ্জাসা করল-এখানে একটু আগে যে মুরগির বাচ্চা বিক্রেতা ছিল তিনি কই? আমি বললাম-তিনি চলে গেছেন। মহিলার দিকে তাকিয়ে তাকে জিঞ্জাসা করলাম আপনারা কি মুরগির বাচ্চা কিনতে এসেছেন? মহিলা হ্যাঁ জবাব দিতেই- আমি তাকে বললাম ছেলেটা এই বাচ্চাটি কিনেছে, এখন বিক্রি করে দেবে। আপনি চাইলে বাচ্চাটা নিতে পারেন। মহিলা জবাব দিল-দাম কত? আমি বললাম দশ টাকা। মহিলা বাচ্চাটি হাতে নিল, আর বাচ্চা মেয়ে দুটির একটাকে বলল- ছেলেটিকে দশটাকা দিতে।
আমার এ গল্পটি লেখার একটা উদ্দেশ্য আছে, তা হল এমনকিছু লোক আছে যাদের প্রাণ অন্যের দুঃখ-যন্ত্রণার সঙ্গী হতে চায়। চায় অন্যকে সাহায্য- সহযোগিতা করতে। কিন্তু নিজের সেরকম ক্ষমতা না থাকায় তারা তাদের মনের সে আশা পুরণে ব্যর্থ হন। তাদের জন্য বলছি- আপনারা যদি এই ছোটখাটো মানবিক সাহায্যগুলোতে এগিয়ে আসেন তাহলে কিছু নিষ্কোমল মনে হাসি ফুটে উঠবে। এরকম আরো কিছু মানবিক কার্য্যঃ ১) কোন শিশু দোকান থেকে কিছু কিনতে গেল, কিন্তু দোকানদার তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে, যে পন্যটি শিশুটি কিনতে চায় তা কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার না থাকাতে। এতে শিশুটির মন খারাপ করে এগিয়ে চলল। এমত অবস্থায় আপনার সামান্য অর্থ তার মুখে সুখের হাসি ফুটাতে পারে। আপনাকে দিতে পারে নীরব শান্তি।
২) একটা লোক জরূরী কাজে মোবাইলে লোড করার জন্য ১০ টাকা দিয়েছে। কিন্তু দোকানদার এগার টাকার নিতে কিছুতেই লোড দেবে না। এদিকে লোকটির কাছে আর টাকাও নেই যে সে দোকানদারকে দেবে। তাই সে দোকানদারকে কাকুতি-মিনতি করছে লোড দেবার জন্য। দয়া করে দোকানদার কে একটা টাকা দিয়ে লোকটার মনে একটু প্রশান্তির পরশ দিন। দেখবেন আপনি নিজেই দারূণ সুখবোধ করছেন।
৩)  একজন ভুলক্রমে নিজের কাছে খাবার জন্য যে অর্থ ছিল, তারচেয়ে বেশি খেয়ে পেলেছে। তাই তার কপালে অপমান অপদস্ততা আছে। দয়া করে তাকে এমন পরিস্থিতি থেকে বাঁচান। এতে লোকটির যেমন মান বাঁচবে, তেমনী আপনার প্রাণেও শান্তি সঞ্চিত হবে।
৪)  বৃদ্ধ একটা লোক। হাঁটতে পারছেন না, একটু দুর গিয়ে একটা রিক্সাওয়ালাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করছে দাদা, আমারে একটু এখানে (তাঁর গন্তব্যে বলে) নিয়ে যাবা। রিক্সাওয়ালা জবাব দিল বিশটাকা লাগবে, বৃদ্ধ জানাল তাঁর কাছে দশটাকা আছে। কিন্তু রিক্সাওয়ালা তাতে তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই বিষয়টি যদি আপনার চোখে পড়ে, তবে আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ তার দোয়া নিতে ভুলবেন না।
দেখুন আবারো বলছি- আপনার ক্ষমতা নেই কোটি টাকা খরচ করে আপনার আপনজনদের খুশী করতে। কিন্তু এই ছোটখাটো সাহায্যগুলো এত সহজে আপনার মনে এমন এক পরিপূর্ণ তৃপ্তী জোগাবে যা আপনি আজীবন চেষ্টা করেও কোথাও থেকে পাবেন না।
আমি বার-বার অনুরোধ করছি, আসুন আমরা সকলে মিলে এই মানবিক সাহার্য্যগুলোতে এগিয়ে আসি আর নিজেদের মানবিকবোধ জাগ্রত করি। নিজেদের মনুষ্যত্বের অস্তিত্ব উপলব্ধি করে মানুষ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের এই সুযোগ কি আপনারা হেলায় হারাতে চান!

একদিনের কল্পবিলাস পার্বণের আমন্ত্রনে


জীবন থেকে অনেক কিছু চলে যাচ্ছে চলে যাবে, কেননা জীবন যে বড়ই সঙ্গীন। ভালোবাসা জনে-জনে ভিন্ন হয় দিনে-দিনে গাঢ় হয়। কিন্তু একি? গাঢ় ভালোবাসার যে এখন গলনাংক কমে যাচ্ছে আর দিনকে-দিন তা শূণ্যের কৌঠায় পৌঁছে যাচ্ছে। আচ্ছা ভালোবাসার গলনাংক যখন শূণ্যে গিয়ে দাঁড়াবে তখন কি মানুষ ভালোবাসায় এঁটে যাবে? মানে- সবকিছু একত্রে জড়ো হয়ে যাবে?

বড় বেসরিক বকছি; কেহ কেহ ইতিমধ্যে পাগল ঠিকরাতে শুরু করেছে হয়ত। কিন্তু কেন জানি ভায়া, আমার না সত্যি তাই বোধ হচ্ছে। এই দেখ না বিজ্ঞানের উৎকৃষ্ট সাধনে আজ আর ভোরের আলোয় মাঠ কর্মচঞ্চল হয় না, সোনাজাদুদের বুকের কাছে জড়িয়ে বাবা-মায়েরা শুয়ে থাকে। কিন্তু জাদু উঠেছে বলে তার নাস্তায় ব্যস্ত হয়, বাবা ব্যস্ত হয় জাদুর সাথে নাস্তা করতে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সব হয়ে যাচ্ছে, তারপরও কানে ভাসে, উহ! এত কাজ একজনের পক্ষে করা সম্ভব? সাথে-সাথে অনেকে আবার ভালোবাসায় উচ্চারণ করে, আমি তোমার কষ্ট বুঝি; এই ত আর মাত্র কয়টাদিন তারপর সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে। ঘরের গৃহিণীর এখন ঘরের কাজেও একজন সহকর্মী লাগে; আহা! এমন দুধে-আলতা গৃহিনীর ছুড়িয়ে পড়া রং এতশ্রমে যে, ছুকিয়ে যাবে।

অথচ যখন ছোটবেলায় পৌঁছুই তখন দেখী ভোরের আভা ফুঁটেছে কি ফূঁটে নি তখই কর্মচঞ্চল সকলে, আহারে-বিহারে কিংবা নাঙ্গলে-জোয়ালে। অবুঝ হৃদয় কি তখন এতটা বুঝত? শুধু অনুভব হত বেশ, এই বাবার সাথে বসে যদি সকালের নাস্তাটা হত কিংবা মা যদি একটু মুখে তুলে দিত; বড় সুখী মনেই সকালের নাস্তাটা আমার হয়ে যেত। কিন্তু ভালোবাসা যে; তখন আর উত্তরিয়ে পড়ত না, তাই আশাটাকে নিজের মধ্যে দাহ করে দিতাম কিংবা আবেগের আহত চিৎকারে চঞ্চল করে তুলতাম মায়ের মমতার হৃদয়কে। ঘরে বসে বাবার সাথে সে নাস্তা না হোক, মাঠে গিয়ে বাবার নাস্তাটুকু ভাগ পেয়ে কিছুটা ভালোবাসায় সিক্ত হতাম। প্রকৃতিকে দেখিয়ে-দেখিয়ে নাস্তা করতাম আর বলতাম, এই আমার বাবা আমাকে কত্ত ভালোবাসে। কিন্তু ভালোবাসায় সিক্ত কোমল হৃদয় তখন বুঝত না; মমতায় আমার অর্ধাহারি বাবা আমাকে কি দিয়েছে আর আমি তাকে কি দিচ্ছি।

দিনরাত্রি বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে রঙ্গিন স্বপ্নরা মুছে গেলেও কর্মে দূর্ভোদ্য জীবনে কিছুটা ভালোবাসার হিমবাতাস নেমে আসত মাঝে-মাঝে। আরে ঐযে; মনে পড়ছে না……. নানান পূজা-পার্বণের কথা? হ্যাঁ; তখন আমাদের জীবনের যেটুকু ভালোবাসার রঙ্গিন শুভেচ্ছা ছিল সে পূজা-পার্বণের কালে। আনন্দগুলো বেশী ঘটা করে আসত পহেলা বৈশাখ আর কোজাগরি(লক্ষ্মী) পূজায়। মনে পড়ে কোজাগরের সে দিনে বাড়ীর আশপাশে দাদাদের কিংবা কাকাদের অগ্রীম বাজী ফুটানোয় সে কি বাসনা জাগ্রত হত। কেঁদে-কেঁদে অস্থির করে তুলতাম মা-বাবাকে। বাবা আমাকে যে এবার বেশী করে বাজী কিনে দিতে হবে। বাবা ভুলাতে চেষ্টা করতেন, বলতেন বাজী কিনে আগুণ ধরালেই তো শেষ, তারচেয়ে বাবা তোর জন্য মজার-মজার খাবার নিয়ে আসব। কিন্তু মজার খাবার কি আর পারে লুটতে হৃদয়ের গভীরে পোথিত বাসনাকে। খাবারের লোভ যখন নগণ্য তখন এমন বোঝানোয় আরো অস্থির করে তুলত। কান্নারাও তখন আরো জোরালো হত। অবশ্য মা বলত, কি করছ, ছেলেটাকে কিছু বাজী কিনে দাওনা- “মানুষের জীবনে শখ বেশী নাকি পাঁচ শিকে বেশী”? মায়ের কথায়ও যখন দেখতাম বাবার মুখ দিয়ে আশ্বাসের কোন বাণী নিঃসরিত হচ্ছে না, তখন বড় অভিমান হত। ভাবতাম বাবারা কোনদিনও ভালোবাসতে জানে না। তখন পদে-পদে অনুভব হতো ভালোবাসার শূণ্যতাকে, মা-বাবা কিংবা স্বজনদের অমানুষিক পরিশ্রমে যখন গা দিয়ে ঝর-ঝর করে ঘাম নিঃসরণ হত, তখন সব কিছুতেই বড় বেশী অমানুষিকতা বোধ হত। বার-বারই আক্রান্ত হৃদয়ে উৎসরিত হত- ক্ষুধার যাতনায় ভালোবাসারা বোধহয় মারা পড়ে।

আজ জীবন অনেক ভালোবাসাময়। সত্যি এখনকার ভালোবাসার বর্ণন বড়ই সুকঠিন। কিন্তু এত ভালোবাসাও আজ বড় অনুভব হয় ভালোবাসার তারতম্য‘তা, হৃদয়ের পীড়ণে জমে থাকা স্মৃতিপটে আহত হয় আজকের হৃদয়। হায়! আমি আর কি ফিরে পাবো সে মূর্তিমান দিনগুলি; যেখানে হাজার দুঃখ-যন্ত্রনাও নিঃশেষ হতে চাইত একদিনের কল্পবিলাস পার্বণের আমন্ত্রনে।

দাসত্ব মানষিকতা


গরীবের দায়ভারটা শুধুই পেটের, তাই পেটের জন্য শয্যা পাততে যেমন তাদের দ্বীধা নেই, রাত-দিন মল ছাটতেও তাঁদের ঘৃণা নেই। শত্রুর একটুখানী স্বার্থণ্বেষী সহানুভূতিও তাদের আবেগ কেড়ে নেয়।
বাঙ্গালি জাতি আজীবন গরীব, গরীব জীবন-যাপনে, গরীব কার্য্যকরনে; মণণে। নিজের বলা এই কথাগুলোয় আমি নিজেই লজ্জায় ডুবে মরি, তবু সত্যটাকে অস্বীকার করতে পারি না বলে, অকপটে তা বলতে পিছ‘পা হই না।

প্রাচীণ বাংলার ইতিহাস বড় করুণ, যে ইতিহাস করূণ হৃদয়ে বরূণ সুখ না তুলে বারংবার এমন দূর্বিসহ স্থানে নিক্ষেপ করেছে, যেখান থেকে বাঙ্গালী জাতি তখনোও বের হতে পারেনি, এখনো পারছে না। নিজেদের দাসত্ব জীবনের মানষিকতা, শোষিত থাকার চিন্তাভাবনা, কোন কালেই এরা নিজেদের চিন্তার উর্দ্ধে স্থাপন করে তা থেকে বের হতে পারেনি। তাইতো স্বাধীন বন্দরে থেকেও প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে তাদের দাসত্ব কা্র্য্যকলাপ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এই জাতির দাসত্ব জীবন-যাপন ও দাসযুক্ত মনোভাব সম্পর্কে। প্রাচীণ বাংলার ইতিহাস ঘেটে-ঘুটে যতটুকু জানা যায়, প্রায় চারহাজার বছরপূর্বে এই বঙ্গে বসতি গড়ে উঠে দ্রাবিড় ও তিব্বতীয়-বর্মী জনগোষ্ঠীদের মাধ্যমে। এরপর এই অঞ্চলটি ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত হয় এবং স্থানীয় ও বিদেশী শাসকদের দ্বারা শাসিত হতে থাকে।শাসিত বঙ্গের মানুষের মানষিকতায় জন্ম নেয় শোষিত হবার মানষিকতা।তাইতো এই দেশকে শোষন করার জন্য ক্রমান্বয়ে উত্থান ঘটে বিভিন্ন শাসকের (প্রাচীণ কালে), ঔপনিবেশিকদের এবং সর্বশেষ পাকিস্থানিদের।
শোষনের নির্মম যাতনা যদি বাঙ্গালীকে আহত না করত তবে বাঙ্গালী জাতি বোধহয় আজীবনের জন্য দাস হয়ে থাকার মনোভাব পোষন করত। যুগের বিবর্তন ধারায় আজ এমন এক পর্যায়ে পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে, যেস্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের আজও স্বীকার করতে হচ্ছে সে নির্মম সত্যটাকে। শাসকের নির্মম যাতনার বেড়াকলে যারা পড়ছে, একমাত্র তারাই শাসকের বিরূদ্ধে লড়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে, অথচ অল্প-বিস্তর সুবিধাভোগীরা আজীবন ছেটে গেছে শোষকের উছিষ্ট মল আর যাতনা বিস্তৃত করেছে শোষিতদের মাঝে। তাই শোষিতদের অর্জিত বিজয়টিকে তারা জয় হিসেবে মেনে নিলেও আজীবন মন থেকে তাকে ঘৃণা ছুড়েছে।
ইতিহাস ঘেটে আমরা জেনেছি একমাত্র শোষিতদের আত্মত্যাগে স্বাধীনতা নামক শব্দটির দেখা পেয়েছে এই বঙ্গজাতি। তাই স্বাধীনতা শব্দটি শোষিতদের হৃদয়ের আত্মকরূণ সুর। আমরা সকলে জানি; “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে, স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন”। তাই লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে বাঙ্গালী স্বাধীনতা নামক সোনার হরিণটিকে পেলেও তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বারংবার ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার কারণটাও সু-স্পষ্ট, যেহেতু স্বাধীনতা এসেছে নিপীড়িত লোকদের হাত ধরে আর তারা ছিল দেশের সবচেয়ে বেশী নিগৃহীতজন। তাই রক্তের বিনিময়ে শক্তভীটা পেলেও তা পরিচালনার ভার চলেগেছে তখনকার সুবিধাভোগীদের হাতে। সুবিধাভোগীরা চিরকালই স্বার্থপরায়ন আর পা‘ছাটা স্বভাবের। তাইতো অসহায় জনের রক্তের অধিকারের পূর্ণফলও যেন তাদেরই জন্য।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে বিজয় বাঙ্গালির হাতে ধরা দিয়েছে, তাও লক্ষ শোষিত জনের হাত ধরে। অথচ দেশচালনার অজ্ঞতায় তা আজ চলে গেছে স্বার্থন্বেষী, সুবিধাভোগীদের হাতে। যাদের চিত্ত স্বাধীনতার বিরোধীতায় ভরপূর ছিল, তারা আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় জন। তাইতো আমরা আজ স্বাধীনতা অর্জনের পরও পরাধীন মানষিকতার লোকদের কাছে জিম্মি।
বাঙ্গালীর চেতনার পরিবর্তন হয়েছে, দেশ চালনার জন্য নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। অথচ দেশের দায়িত্ব ভার গ্রহণে তারা এগিয়ে যেতে পারছে না। কেন?????
শুধু একটাই কারণ, স্বাধীনতার পর যে স্বার্থণ্বেষী মহলের হাতে ক্ষমতা চলে গেছে, তাদের হাত থেকে আজ ক্ষমতা নেয়ার ক্ষমতা বাঙ্গালী হারিয়েছে! স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে যে জারজদের সংখ্যা ছিল একশ আজ তা লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। বাঙ্গালী কোথায় থেকে তাদের স্বাধীন ক্ষমতার অগ্রাসন শুরু করবে? রাজমহল থেকে ছিটমহল, গণভবন থেকে জনভবন, চাঁদহাট থেকে ফুটপাট সব স্থানে আজ তাদের স্ব-বিস্তার। আর এই স্ব-বিস্তারের পূর্ণাঙ্গরূপ দিয়ে চলেছে আওয়ামী আর বি.এন.পি নামক দু‘টি দল। সহজ-সরল যে প্রাণগুলো আজো নিজেদের মনপ্রাণ সঁপে রাখে যে দু‘টি দলকে সেদলগুলো নাকি আজ রাষ্ট্রদ্রৌহি কিংবা সৈরাচারীদের সহযৌগিতা ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারে না। এরমানে কি? খুবই সহজ অংক চলে গেছে অসহায় বাঙ্গালীর মনে। তারা বুঝে গেছে রাষ্ট্রদ্র্যৌহিদের বিস্তার আজ কোথায় পৌঁছে গেছে।
অপেক্ষায় আছি আবারো দাসত্ত্ব জীবনের। বুঝি গেছি আবারো পরাধীনতার মোহজাল বিস্তার করতে যাচ্ছে আমাদের মাথার উপর। আমার এই ভয় মিথ্যা কিংবা উপেক্ষিত নয়। আমার এই ভয় বাস্তবতা ভেবে। যখন থেকে জেনেছি, রাষ্ট্রদ্র্যৌহিরা ৪০ বছরে এইদেশে গেঁথে বসেছে, দেশের বড়-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তারা, এদেশে তাঁদের রয়েছে বড়-বড় হাসপাতাল, যেখানে তারা সহজ-সূলভ সেবা প্রদান করে বাঙ্গালীর দূর্বল অনুভূতিকে পুঁজি করতে, এই দেশে চলে তাদের শক্তিশালী ব্যাংক সেবা কার্য্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিদ্যালয়, মসজিদ কিংবা মাদ্রাসায় তারা স্ব-বিস্তার ঘটাচ্ছে, তাদের অন্যায়-অবিচারের বিচার কার্য্যক্রম ঠেকাতে কিছু-কিছু স্বাধীনকামী বাঙ্গালী এগিয়ে আসছে, ক্ষমতার মগডালে বসে কিছু-কিছু দেশজারজ রাষ্ট্রদ্র্যৌহি নেতাকর্মীদের সহায়তা করছে দেশে উৎশৃঙ্খল কার্য্যক্রম চালাতে, তখন বাঙ্গালী জাতির বিগলিত মন দেখে অসহায় বক্তব্য ছাড়া আমাদের দেবার মতো আর কিছু থাকে না।
বাঙ্গালী দৃষ্টি প্রতিবন্দী নয়, ইতিহাস তার প্রমান দেয়। তবুও যখন দেখী দেশের এমন পরিস্থিতিতে আজও তাদের নিরব অবস্থান, তখন সহজেই ধরে নেই, তারা আজও দাস মানষিকতা থেকে বের হতে পারেনি। আজও নিজের স্বাধীন দেশে তারা কতটা পরাধীন, নিজের স্বাধীন দেশে অন্যের সামান্য সহানুভূতির সুখে তারা আজো কতটা সহজ সুখে গ্রহণ করে। অথচ নিজের অজানন্তে নিজের স্বাধীনকামী মাতাকে অন্যের কাছে কতটা সহজ করে বিকায় রাষ্টদ্র্যৌহিদের অন্যায় আবদারে।

জাগরণ


অথচ নারীর বুকে জেগে উঠা ঐ মাংসপিন্ডটুকুই নাকি
নিসাড়-নির্জীব পুরুষকেও সজিব করে তোলে
যারা সমাজের কথা বলে; রাষ্ট্রের কথা বলে; বলে সম-অধিকারের কথা
অথচ বুকের উপর পোথিত ঐ মাংসপিন্ডটুকুর মোহতায়
তারা কামনার ঢেঁকুরে অস্থির হয়ে পড়ে
চিৎকার তুলে আহা; এ‘যে কাপড় তুলে সব উন্মুক্ত করে দিলে
বাতাসের ঘুর্ণি‘যে ঐ ছুটছে, দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাও হে…

তাদের কাছে তবে এই মাংসপিন্ডটুকুই কি অভিসন্ধিসুর মূল-আহ্বান?
এই নিজের সীমাবদ্ধতাটুকু দমাতে পা পেরেই কি তাদের
নারীর পায়ে শিকল পড়ানোর অতৃপ্ত বাসনা?

বাহ! কি দৃষ্টিভঙ্গি পুরুষ সমাজের
গোপন অভিসার আর চরিতার্থ আচারের নগ্নপশুরুপ তাদের
উন্মোচিত হচ্ছে দিনকে-দিন…..
অথচ অবাক বিষ্ময়ে তারা মুখে নারীর জাগরণের
উচ্ছ্বসিত গান গেয়ে ফেনা তুলছে
আহা! জাগরণ যে আজও গোলকধাঁধাঁয়……

স্যলুকাস সব ভাবনারা;
যখন এতটুকু মাংসপিন্ডের দুর্ধমনীয় বাসনায় শুনি
পুরুষসমাজ উন্মাদ হয়ে যায়,
যখন বাসনারা মানুষেররূপকে
মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না; তখন ভাবী
মুখের ভাষাতে কি আর ভালোবাসা‘রা টিকে?
টিকে কি সহমর্মিতা কিংবা সহবেদনা‘রা?
বরং নীরব অভিসারে যা হত;
প্রকাশ্য তার চূড়ান্তরূপ আরো বেশী উন্মেচিত হয়
যার পরিণামে কানে ভাসে, আজকের নারীসমাজ অসতী!

নারী অনুরোধটুকু আমার রেখ
যেওনা ঐ জাগরণের গানে, ঘরে ফিরে তুমি আস
ঘরেই যে তোমার জন্য নিশ্চিন্তের অবস্থান,
এখানে তোমার দেহের ঐ মাংসটুকুর আহ্বান
লুকিয়ে দেখা নির্লজ্জকে সুখ দেবে
এখানে প্রকাশ্যের মতো গোপন অভিসারে
তোমাকে দেহতে কেহ ছোবল দেবে
কিন্তু তা প্রকাশ পাবেনা
কারণ গৃহময় তোমার কষ্টেরা তখন
বুক ফাঁটিয়ে চিৎকার দেবার সুযোগ পাবে না
তোমার অন্তরের শূণ্যতারাও কখনো অস্ফালন করবে না
তুমি বলতেও চাইবে না যে এ তুমিও মানুষ ছিলে!

যে প্রানী হিংস্র-
স্নেহ-ভালোবাসায় পুষেও তার ছোবল থেকে বেঁচে থাকা দুষ্কর
আজ স্নেহ-ভালোবাসাগুলোকে খুন করে দাও,
শিখ পুরুষের মতো হতে-
এ জাতি স্নেহ-ভালোবাসা মুখের প্রকাশ করতে শিখলেও
অন্তরে ভাবে এরা এই তোমাদের অনুগ্রহ করছে
কেননা তোমরা যে আজও তাদের দাসী!

কেন তোমরা অনুগ্রহে বাঁচবে?
আর যদি অনুগ্রহে বাঁচার স্বাদ হয় তবে
খোলসে থাক; কর ঘরের অন্ধকুঠরে দিনাতিপাত
যেখানে তোমাকে আত্মীয়-স্বজন; বন্ধু-বান্ধব খুবলে খেলেও
সমাজের চোখে তুমি সতী থাকবে!
কেননা; ছেটে খাওয়া পুরুষরা ক্ষুধা মিটলে নতুন খাবারের সন্ধান করবে
বার-বার একই খাবার খাওয়ায় তাদের নাকি ব্যামো হয়!

প্রদাহ


বিছানা ছেড়ে আজই উঠে এলাম,
শরীর আর মনের যে রোগ
নিত্য প্রদাহে প্রহার করছে
তার নিরন্তর সুখকে বিসর্জন করে
ছেড়ে আসার মতো শক্তি-
কিংবা মনোবল আমার ছিল না।

আকাশের সবুজের দিকে তাকাই—
অজানার অনুভবগুলো বিছিন্নভাবে
ছড়িয়ে যায় আকাশের নীলে
সবুজ বীথিকারাও-
আজ জড়তা আর অবসন্নতায় বিক্ষিপ্ত।
শরতের আকাশের সদালাপী কাকে‘রা
তাকে আরো বিক্ষিপ্ত করল;
এই বিক্ষিপ্ততায় মৃত্যুকে জড়াই বাসনায়।

কি বা করার ছিল আমার কিংবা তোমার?
যখন ভুলেরা
দু‘জনার সমস্ত শিরা-উপশিরাকে
বন্ধনে বেঁধে ফেলেছে; তখন
সামান্য ব্যাপারও যে
বড় রূঢ় নিষ্ঠুর বোধে আসে।

স্বপ্ন-বাসনারা হারিয়েছে আমাদের।
এই অনন্তখরা জমানো বিকেল
তাই আমাদের কাছে মুক্তস্বস্তির নিঃশ্বাস-
কিন্তু বিছানায় পড়ে-পড়ে শরীর আর মনের
যে বেদনাটুকুকে ছড়াতে চেয়েছি ক্ষোভ-অভিমানে;
আজ তোমাকে সাগ্রহে কাছে পাবার বাসনাটুকু কি
তাকে ম্লাণ করতে চাচ্ছে না?

জীবন মোদের নর্দমার ফাঁক


জুয়াড়ী নানান চিন্তায়;
সন্মোহণি জুয়ায় টাল
জ্ঞাণপাপী ছদ্মবেশে দেয়;
পদে-পদে দাবার চাল।

রসিকজনা রসে টইটম্বুর
রসখসে পথ ভিজে যায়
প্রগতিশীল ছাত্রনেতার পথ
অসহায়ের রক্তে ভেজায়।

ধর্মকর্তার ধর্মবিচার আজ
অন্যসবের সব মিথ্যে অসার
মূর্খজনার গোয়ারনীতিতে
তিল থেকে তাল হচ্ছে আচার।

বুদ্ধিজীবী‘রা আছে সমাজে
বাঁশসুখ তাদের কল্যাণে
হাবাগোবা মোটা মানুষ লাগে
স্বার্থউদ্ধারে প্রয়োজনে।

কিংকর্তব্য বিমূঢ় আমরা
অতশত কি বুঝি?
জীবন মোদের নর্দমার ফাঁক
বিষকচু‘তে ফাঁক বুঁজি।

মানবতার মুক্তি


অনেক দিয়েছ শক্তি বিধাতা; অনেক দিয়েছ শক্তি
তবু; এ‘ধরা কভু হয়নি সুখের; পায়নি মানবতা মুক্তি।

মানবতা নিয়ে ভেবেছে অনেকে; করেছে অনেকে তার আচর
তবু; শক্তির কাছে নতজানু হয়ে; নামেনি কভু আলোর প্রহর
দিগন্তে-দিগন্ত ছুটে চলেছে সদা; লোভ-কামনা তার প্রাপ্তী;
ক্ষমতার ঝড়ে মানবতা কেঁদেছে; পায়নি মানবতা মুক্তি।

লালন ভেঙ্গেছে ধর্মের জাত; হাছনরাজা তার জাতি
ক্ষমতার লোভে মরে বারে-বার; হয়েছে সব বিস্মৃতি
ফুলে-ফলে-গাছে জাতের নিপাত তবু, ক্ষয়েনি দম্ভের শক্তি
সঙ্করে-সঙ্করে বর্ণ ভেদাভেদ আজ; পায়নি মানবতা মুক্তি।

মানবতায় মানবতা কেঁদে মরে আজ; অস্ত্র-বারুদের ঝঙ্কারে
মানবতা লুটে মানবতার ঘর; আশ্রয়-প্রশ্রয়; অহংকারে
লোভের কাছে আজ মানবতা পুড়ে ছাই; ধ্বংসে মানবতার শক্তি!
আকাশ-বাতাস গুমরে কেঁদে বলে; পায়নি মানবতা মুক্তি।

মানবতা মুক্তি পায়নি কখনো; মুক্তি হবেনা হয়ত তার
তবু যুগে-যুগে বেঁচে স্বপ্ন দেখে সবাই; পেয়েছে মানবতা নিস্তার
সে নিস্তারে আকাশ-বাতাস মুখরিত; জয়ধ্বনি‘তে সুখের অনুরক্তি
আলোক ধারায় নেমে আসুক ধরায়; দেখব মানবতার মুক্তি।