আমি চাইনা হতে যাবার কালে


আমি চাইনা হতে যাবার কালে
বন্ধু তোমার প্রাণের দাবী
এত অনাদরে……
মনের স্রোতে মন ডুবে যাক
ফুটুক কলি পদ্ম হয়ে বানের জলে।

অশ্রুজলে ঝরা শিমুল ভাসুক
জুড়াক প্রাণে মনভোলা সুখ
অবুঝ ছলে
শুধু তোমার সুখে বাঁধব ব্যথা
ভুলব আপন মনের কথা
কালের অন্তরালে।

কালের খেঁয়া স্মৃতি বয়ে
জমুক বুকে শৈবাল হয়ে
সাগর তলে
মুগ্ধ আমি মুগ্ধ হয়ে
পাষান ব্যথা বুকে বয়ে
ভাসব নোনাজলে।

আমায় ধরিয়া তোল বিসখে


আমায় ধরিয়া তোল বিসখে, নিদ না আসে দু’চোখে
হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন
ওরে মজে তাহার প্রেম ফাগুনে, হীয়া পুড়িল দহনে
বাঁচে না, বাঁচে না আর প্রাণ
ও বিসখে; হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন।

আমি আনন্দে মেতেছিলাম, সোনার রঙ্গে দিনকাটালাম
যবে না ধরা দিল শ্যাম
ও’সে, বসিয়া কদম্বডালে, মুরালীর সুর-তালে
ডাকিল-ডাকিল রাধা নাম
ও বিসখে; হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন।

মুরলীর এমন টানে, টানিল পথের পানে
যায় না রাখা হীয়া ধরে
ওরে ছুটে তাই আসিলাম, বিনয়ে প্রেম সাধিলাম
মন না জেনে মন দিলাম তারে
ও বিসখে; হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন।

দীননাথ বলে তারে, প্রেমনাথ মনে করে
সঁপিলাম জীবন-যৌবন হীয়া
ওরে নিষ্ঠুর মন তাহার, ভুলিল প্রেম আমার
কাঁদি বসে ক্ষুধা-নিদ্রা ভুলিয়া
ও বিসখে; হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন।

অবিবেচক ভাবে বসিয়া, কি বিরহে শ্যাম কাঁদাইয়া
গেল বিরহীনি রাই
ওরে অবিবেচক বিনয় করি, বলে শ্যামের পদধরি
কাঁদাইওনা, কাঁদাইওনা আর রাই
ও বিসখে; হারায়ে শ্যাম কালাচাঁন।

যাব তোমার গাঁয়


বাদলা দিনে মেঘের সনে বৃষ্টি খেলে যায়
এমন দিনে তুমি এলে যাব তোমার গাঁয়।
সেকি জান কি? সে জান কি?
এমন দিনে তোমার জন্যে, মনযে উতলায়।

ধুত্তুরি ঐ দাদাবুড়ো কত তামশায়
দিঘীর জলে বৃষ্টি পড়ে আনন্দে মিশায়
ছেলেরদলসব এমনদিনে নেইকো ঘরে বসে
আমি কেমনে থাকি বসে, তোমায় ভালোবেসে।

বৃষ্টিতে আজ দু’জন ভিজে হব একাকার
দূর্বাভরা মাঠের পরে, খুশির বাহার
এইযে, বাড়ানো আছে মোর হাত, ধরে নাও হায়
সত্যি বলছি; তুমি এলে, যাব তোমার গাঁয়।

রঙ্গিলা তুমি রঙ্গিন ভূষণে…


রঙ্গিলা তুমি রঙ্গিন ভূষণে সাজিলা কত রঙ্গে
আমি প্রেম রঙ্গে মজিলাম রাঙ্গি, তোমার প্রেমের ঢঙ্গে।

আষাঢ় মাসে কাঁদা খেলায়, এলে কাঁদা নিয়ে
নয়নে চেয়ে দিলে হাসি, নিলে ভুলিয়ে
হায়রে দুই হাতে মাখিলা কাঁদা আমার সারা অঙ্গে।

শ্রাবণমাসে দোলপূর্ণিমায় আবির নিয়ে খেলায়
দিলে মেখে প্রেম আবির আমার প্রেমশালায়
সেই থেকে মন রাঙ্গিল তোমার মনের রঙ্গে।

বাসিলে-বাসিলে ভালো, করলে উতলা
ওগো রাঙ্গি প্রেমের রঙ্গে হলো হীয়া কালা
অবিবেচক কয় আর কতকাল রইব মজে রঙ্গে।

ফুল ফুটতে দাও


ফুল ফুটতে দাও, ঝরতে করো নাকো মানা
প্রেম আসুক জীবনে, ভাঙ্গনে বাঁধা দিও না।

জীবনটাতো রঙ্গের খেলা, রঙ্গে থাকো মেতে
ভাঙ্গা-গড়ার এই খেলায়, যেওনাতো চটে
বারিষন আসলে জীবনে, নয়নধারে ঝরাও না।

সহজপথে চলতে শেখ, সহজভাবে সব নাও
মধুর প্রতিক্ষাগুলো, আরো মধুর হতে দাও
অসময়ে কাঁটায় চলতে, কোন দ্বিধা করো না।

যত প্রীতি যত রীতি, ভাব সব এক তীথি
আসল শুধু দু‘দিন গতি, বাকী নিথর দুনিয়া।

তোমার পোকার মত দম


অনলে দগ্ধিলে জীবন বুদ্ধি তোমার কম
তোমার পোকার মত দম।

অনল হরে পোকার জ্ঞান হরিছে তোমার তাই
বোকার মত করলে সমর্পণ জ্ঞানের হীনতায়
তুমি বিবেকহারা উদাসনিশি তাইতো দেখী সম।

সংসার মানে টিকে থাকা আপন জ্ঞানে
সংসারবেড়ী পাড়ি দেয়া জীবনের মানে
তুমি অকালদর্শী ক্ষুদ্র ভাবনায় হয়েছ কায়ক্ষম।

সংসারের চারিদিকে অনলের কুন্ডলী
জ্ঞানের তীরসীমায় দিতে হয় অঞ্জলী
তুমি অঞ্জলী দিলে আপনায় একি রমারম।

অবিবেচক অনলপানে চেয়ে একবার কয়
দগ্ধ কর, দগ্ধ কর হীন জ্ঞানচয়
ওরে যে জ্ঞান আপনায় টিকায় না, দগ্ধহোক তা সারাজনম।

আমার নদীর মত মন


আমার নদীর মত মন, জোয়ার বাঁধ মানে না
ওরে একুল ওকুল যাবে ভেঙ্গে, যাবে ভেঙ্গে দুনিয়া।

অমবস্যা কালে উত্তাল এই নদীর বুক
ক্ষরস্রোতে করালগ্রাসে ভেঙ্গে যাবে সুখ
ওরে নিত্য ঘুমে অসার জীবন, জাগিলে উঠবে হায়-হায়।

ওগো মাঝি হও হুঁশিয়ার আমার বুকে বসে
আমি, ক্ষুদ্ধ হলে নেব তলায়ে তোমায় আমার কাছে
ওরে কাঁদবে তখন তোমার স্বজন, আমার চারিদার ঘুরিয়া।

আমার বুকে থাকবেনা বল, যখন বিধাতা বলবে থাম আর এগিয়ে যাস না
করালস্রোত আমার থামবে সেদিন আর রবে না, হায় রবে না
ওরে মৃত্যু আমার শূন্যহীন ধরায়, নোনাজল-বালি ঘিরিয়া।

প্রেম শুধু ভাবুকের ভাবনা


পৃথিবীটা মায়া কিনা জানি না
শুধু জানি প্রেম বলে কিছু নেই, আছে শুধু ছলনা ।
পৃথিবীতে সহানুভূতি কেউ করে না
যেটুকু তার নামে, সবটুকুই করুণা ।।

ফুল ফুটে গাছের শাখে, মায়া জড়ায়ে হাতে থাকে
মায়া যখন ফ্যাঁকাসে হয়ে যায়, পথ হয় তার ঠিকানা ।।

স্বপ্ন নিয়ে সুখের স্বজন, মায়ার টানে হয় আপনজন
লোভের অনুভূতিতে, দেখী কারো পরিচয় থাকেনা ।।

একমন-একঘর-একরাজপথে, রাজা-ফকির তবে কেন একই জয়রথে
সত্য ভাবি শুধু এইখানা, প্রেম শুধু ভাবুকের ভাবনা ।।

প্রভু তোমার লীলাবিলাস বোঝা…


প্রভু তোমার লীলাবিলাস বোঝা, সাধ্যি কি মোর আছে
তুমি পঞ্চমহাভূতে অষ্ট জড়ধারায়, গড়িছ মোহিনী রসে।

ছয়রূপে দেহ হয় পরিবর্তন, ত্রিতাপ ক্লেশে ভরে নয়ন
প্রকৃতির ত্রি’গুণ ধারা, দু’মায়া গড়া রোষে।

ত্রিগুণাত্নিক মায়াশক্তি জগতে প্রকাশ, চারিযুগে চারিরূপে করিছ বিলাষ
নবধা ভক্তি স্রোতে রহি, দু’অহং ধারা ক্লেষে।

অষ্টযোগে অষ্টসিদ্ধি হয়, পঞ্চপঙ্খ জীবচেতনা রয়
ষড়রিপু ষড়ক্ষোভে দ্রোহে, জ্ঞানান্দ্রিয় গ্রহ কোষে।

কর ক্ষমা ওগো দয়াময়, অবিবেচক চায় তব চরণদ্বয়
পাপ সন্তোরিতে সত্য স্মরিতে, কাঙ্গাল হয়ে রহি বসে।

আমি রাই প্রেমে বিবাগী


আমি রাই প্রেমে বিবাগী হয়ে, ঘুরব দেশে-দেশে
মজাইয়া প্রেমে আমারে রাই, নদীর ঘাটে না আসে।

আসবে বলে মধুমাসে, আছি আমি বসে
আসলো না, আসলো না’গো রাই, নয়ন জলে পথ ভাসে।

মুরলীতে সুর ধরি, গাহি রাই নাম
সুর শুনিয়া ভাবী রাই, আসবে সুরধাম।

আমি শ্যাম অভিমানে, হব যে দেশান্তরী
সেদিন রাই প্রেমের মর্ম, বুঝবে অন্তর পুড়ি।

অবিবেচক কয় ওগো রাই, ত্যাগ অভিমান
অনুরাগে রাগিয়া শ্যাম, করিবে প্রস্থান।